বাংলাদেশ

হোটেলের আড়ালে স্ত্রীকে দিয়ে রমরমা দেহব্যবসা চালাতো রুবেল

চাচাতো ভাই মনির প্যাদাকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে রুবেল প্যাদা নামের এক ব্যক্তি নিজেই ফেঁসে গেছেন। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বরগুনার আমতলী উপজেলার ছুরিকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, আমতলীর ছুরিকাটা গ্রামের আলতাফ প্যাদার ছেলে রুবেল প্যাদার সঙ্গে তার চাচাতো ভাই মনির প্যাদার জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে মনির প্যাদাকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসাতে তানিয়া আক্তার নামের এক মেয়েকে ঠিক করে রুবেল প্যাদা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গতকাল সোমবার রাতে তানিয়াকে দিয়ে আমতলী থানায় মনির প্যাদা ও একই এলাকার তোফাজ্জেল বেপারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলার প্রস্তুতি নেয়।

তবে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশারের কাছে রুবেল প্যাদার পরিকল্পনার বিষয়টি খুলে বলে খুলে বলেন তানিয়া। তিনি ওসিকে জানান, রুবেল ও তার স্ত্রী চম্পা বেগম তাকে কাজ দেওয়ার কথা বলে আটকে রেখে অসামাজিক কাজে বাধ্য করেছে। এ সময় মিথ্যা ধর্ষণ মামলার প্রস্তুতির কথা স্বীকার করে আসল রহস্য ফাঁস করে দেয়। পরে তানিয়া বাদী হয়ে রুবেল প্যাদা ও চম্পার বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ১১/১২ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

ওই ঘটনায় রুবেল প্যাদাকে আটক করে আজ আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। এরপর আদালতের বিচারক মো. সাকিব হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, রুবেল প্যাদা ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী চম্পা দীর্ঘদিন ধরে মেয়েদের দিয়ে এলাকার পতিতাবৃত্তির ব্যবসা করে আসছেন। তাদের অপকর্মে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। তারা আরও বলেন, রুবেল প্যাদার দ্বিতীয় স্ত্রী চম্পা আমতলী উপজেলা পরিষদের সামনে ভাতের হোটেলের দোকান দেয়। ভাতের হোটেল ব্যবসার আড়ালে তারা ওই হোটেলে বসেই চালায় অনৈতিক কাজ। এতে উপজেলা পরিষদ এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে চম্পার হোটেল বন্ধের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

মামলার বাদী তানিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার বাবা ও মায়ের মৃত্যুর পরে আমি আমতলী জুথি বিউটি পার্লারে কাজ নেই। এ বছর জানুয়ারি মাসে রুবেল আমাকে ভালো কাজ দেওয়ার কথা বলে আমতলী উপজেলা পরিষদের সামনে তার দ্বিতীয় স্ত্রী চম্পার ভাতের হোটেলে নিয়ে আসে। ওই হোটেলে আমাকে আটকে বিভিন্ন লোকের সঙ্গে অসামাজিক কাজে বাধ্য করে তারা। আমি তাদের কথার বিরুদ্ধে গেলেই তারা আমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো।’

তানিয়া আক্তার আরও বলেন, ‘সোমবার রাতে রুবেল প্যাদা তার চাচাতো ভাই মনির প্যাদা ও মো. তোফাজ্জেল বেপারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করাতে আমাকে থানায় নিয়ে আসে। আমি সুযোগ বুঝে থানার ওসি স্যারের কাছে রুবেল প্যাদা ও তার স্ত্রী চম্পার পরিকল্পনার বিষয়টি খুলে বলি।’ আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার জানান, রুবেল প্যাদা তার চাচাতো ভাইকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসাতে তানিয়া নামের একটি মেয়েকে থানায় নিয়ে আসে। থানায় এসে ওই মেয়েটি রুবেল প্যাদা ও তার স্ত্রী চম্পা তাকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি করানো এবং মিথ্যা সাজানো মামলার সকল ঘটনা খুলে বলে। পরে মেয়েটি নিজেই বাদী হয়ে রুবেল প্যাদা ও তার স্ত্রী চম্পার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।’এ ঘটনায় রুবেল প্যাদাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Orrko Khan
Founder and CEO

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *